কৃষক বন্ধু প্রকল্প র আপডেট ২০২০: গত শনিবার কৃষক বন্ধু প্রকল্পের ২৪ লক্ষ কৃষকের ব্যাংক একাউন্টে সরাসরি মোট ৬৪৮ কোটি টাকা পাঠানো শুরু হল। আপনি যদি একজন কৃষক হয়ে থাকেন এবং পশ্চিমবঙ্গে কৃষক বন্ধু যোজনা প্রকল্পের নাম নথিভুক্ত করে থাকেন তাহলে এই মুহূর্তে আপনাদের জন্য রয়েছে একটা দারুন খুশির খবর। কৃষক বন্ধু প্রকল্পের প্রথম কিস্তি ২৯ শে জুলাই থেকে টাকা দেওয়া শুরু হয়েছে।
এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে বহু কৃষকের ব্যাংক একাউন্টে এখনো পর্যন্ত কিন্তু টাকা ঢোকেনি, তাহলে যে সমস্ত কৃষকদের ব্যাংক একাউন্টে এখনো পর্যন্ত টাকা ঢোকেনি তাদের টাকা কবে থেকে দেওয়া শুরু হবে এই সমস্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করব আজকের এই প্রবন্ধটিতে।
কৃষক কথার অর্থ আমাদের অন্নদাতা যারা প্রতিদিন মাটিতে চাষবাস করে ফসল উৎপন্ন করে আমাদের কাছে সেই ফসল তুলে দেয় এবং আমরা সেই ফসল দ্বারা খাদ্যশস্য উৎপন্ন করি। প্রতিদিন কৃষকেরা মাথার ঘাম পা পায়ে ফেলে জমিতে ফসল উৎপাদন করে এবং সেই ফসল বাজারে বিক্রি হয়ে খাদ্যশস্য প্রস্তুত করা হয় অনেকেই কম মানুষ বোঝে তাদের এই পরিশ্রম করতে কতটা কষ্ট হয়। ফসল পলানোর জন্য তাদের কখনো কখনো ঋণ নিতে হয় ঋণ নিয়ে ফসল উৎপাদন করার জন্য তাদের প্রচুর পরিশ্রম হয় এবং একসময় কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে সেই ফসল নষ্ট হয়ে যায় এমন পরিস্থিতিতে কৃষকের জন্য রাজ্য কেন্দ্র যৌথ অভিযানে এই প্রকল্প চালু করা হয় যার নাম কৃষক বন্ধু প্রকল্প।
সরকারের এই সাহসী প্রকল্পকে বাস্তবায়নতা করতে কৃষক বন্ধু প্রকল্প ২০১৯ সালে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্র সরকারের সহায়তা নিয়ে প্রকল্প চালু করেন ২০২১ সালে সেটা ১৭ই জুন থেকে নতুন রূপে ফিরে আসে আর তখন ঐ প্রকল্পের নাম শুরু হয় কৃষক বন্ধু।
প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য কি ?
এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো শুধু টাকা দেওয়াই নাই বরং কৃষকের জীবনের প্রতিটি পর্বে সুরক্ষা পৌঁছে দেওয়া।
- জমি এক একর বা তার বেশি থাকলে কৃষকেরা বছরে ১০০০০ টাকা পাবে
- জমি এক একরের কম হলে কৃষকেরা প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ৮ হাজার টাকা পাবে
এই অর্থ কৃষকের দেওয়া হবে দুইটি ভাগে-
- খারিফ মরশুমে
- রবি মরশুমে
যদি কোন কৃষক ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী দুর্ঘটনায় মারা যায় তবে তার পরিবারকে সর্বোচ্চ দুই লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে এই প্রকল্প অনুযায়ী।
সমস্ত অপেক্ষার অবসান ঘটলো ২৯ শে জুলাই মঙ্গলবার থেকে কৃষক বন্ধু প্রকল্পের ২০২৫ সালের প্রথম কিস্তি খারিফ মৌসুমের টাকা দেওয়া শুরু হয়েছে। প্রতিদিনই কারো না কারো একাউন্টে টাকা দিচ্ছে এই প্রকল্পে অনুযায়ী।
২৮ জুলাই ২০২৫ সালে সোমবার বীরভূম জেলার প্রশাসনিক বৈঠকে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন যে কৃষক বন্ধু প্রকল্পের টাকা দেওয়া হবে। এই ঘোষণা পাওয়ার পর কৃষকদের মনে খুশির যোগান দেখা দিয়েছিল অবশেষে ২৯ শে জুলাই ২০২৫ মঙ্গলবার বীরভূমের জেলায় প্রশাসনিক বৈঠকে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন কবে থেকে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার টাকা দেওয়া হবে। অনেক জেলায় কৃষকদের ব্যাংক একাউন্টে টাকা ঢুকে গিয়েছে খবর জানা গিয়েছে নদীয়া বীরভূম বাঁকুড়া হুগলী মালদা মুর্শিদাবাদ উত্তরদিনাজপুর পূর্ব বর্ধমান পশ্চিম মেদিনীপুর হাওড়া পশ্চিম বর্ধমান জলপাইগুড়ি কোচবিহার পূর্ব মেদিনীপুর দক্ষিণ দিনাজপুর সহ বেশ কয়েকটি জেলায় কৃষকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা ক্রেডিট হয়ে গিয়েছে। কালকে অর্থাৎ ২ আগস্ট শনিবার জেলার কৃষকদের ব্যাংক একাউন্টে টাকা ঢুকেছে পাঁচই আগস্টের মধ্যে সমস্ত জেলায় বাকি টাকা গুলি ক্রেডিট হয়ে যাবে বলে খবর মারফত জানা গিয়েছে।
খবর অনুযায়ী কুড়ি পার্সেন্ট কৃষকের একাউন্টে টাকা আসেনি। কৃষির অফিস থেকে জানা গিয়েছে যাদের এখনো মোবাইল নাম্বারে টাকা ঢোকার এসএমএস আসেনি তারা নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে গিয়ে পাসবুকটি আপডেট করে নেবেন। এখনো পর্যন্ত যে সমস্ত কৃষকদের ক্রেডিট হয়নি তারা তাদের ব্যাংক একাউন্টের কেওয়াইসি সঠিকভাবে জমা করান। কোন সমস্যা আছে নাকি সেটা একবার চেক করে নেবেন।
সব বন্ধু প্রকল্প নতুন করে আবেদন করার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলায় শুরু হয়ে গিয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার আগস্ট মাসের প্রতি মঙ্গলবার ও শুক্রবার ছুটির দিন বাদে সমস্ত দিনগুলি আপনারা সংশ্লিষ্ট ভিডিও অফিসে ডকুমেন্টস একত্রিত করে বিধানের ফরম জমা করাতে পারবেন।
কৃষক বন্ধু প্রকল্পে কারা আবেদন করতে পারবে !
যেহেতু কৃষক বন্ধু প্রকল্প রাজ্যের একটি প্রকল্প তবে আবেদনকারীকে অবশ্যই কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। এবং কৃষি কাজের সাথে সম্পূর্ণভাবে যুক্ত থাকতে হবে এবং নিজস্ব জমি থাকতে হবে। আবেদনকারীর বয়স ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সের মধ্যে হতে হবে।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন